Summary
ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) শব্দটি 'ইভ' (নারী) এবং 'টিজিং' (উত্ত্যক্ত করা) এর সংমিশ্রণ। এটি নারীদের উত্ত্যক্তকরণের বিভিন্ন মাধ্যমকে বোঝায়, যেমন অশালীন মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি। ১৯৭৬ সালের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সে ইভটিজিংকে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেখানে রাস্তা এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি অশালীন আচরণকে ইভটিজিং হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
ইভটিজিং একটি সামাজিক সমস্যা, যার ফলে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে। এটি সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়।
প্রতিকার: বাংলাদেশে ইভটিজিংকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে, যার শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা। সমাজে এটি প্রতিরোধে পারিবারিক, ধর্মীয়, এবং সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের গুরুত্ব রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যক্রম:
- ইভটিজিংয়ের ফলে সামাজিক ক্ষতির একটি তালিকা তৈরি করা।
- সমাজে ইভটিজিং প্রতিরোধের পদক্ষেপের একটি তালিকা প্রস্তুত করা।
ইভটিজিং শব্দটি ইভ (Eve) ও টিজিং (Teasing)-এর একত্রিতরূপ। বাইবেল অনুসারে প্রথম নারীর নাম ইভ(Eve)। এখানে 'ইভ' বলতে নারী সমাজকে বোঝানো হয়েছে। আর 'Tease' অর্থ পরিহাস, জ্বালাতন করা, উত্ত্যক্ত করা, খেপানো। ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) বলতে কথা, কাজ, আচরণ ইত্যাদির মাধ্যমে নারীদের উত্ত্যক্ত করাকে বোঝানো হয়েছে। নারীদের প্রতি অশালীন উক্তি করা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা ইভটিজিংয়ের (যৌন হয়রানির) অন্তর্ভুক্ত।
১৯৭৬ সালে প্রণীত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স-এ ইভটিজিং-কে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যাতে বলা হয় যে, রাস্তা বা জনসম্মুখে কোনো নারীকে অশোভন শব্দ, অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্যের মাধ্যমে যৌন উৎপীড়ন করা ইভটিজিং হিসেবে গণ্য হবে।
অপকারিতা
ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) একটি সামাজিক ব্যাধি। নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করা, কাউকে মন্দনামে ডাকা বা উপহাস করা গর্হিত কাজ। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ط بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ
অর্থ: "তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করবে না এবং একে অপরকে মন্দনামে ডাকবে না। ইমান গ্রহণের পর মন্দনামে ডাকা বড় ধরনের অপরাধ। যারা তওবা না করে তারাই যালিম।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)
বর্তমানে প্রায়ই স্কুল-কলেজের সামনে, রাস্তার মোড়ে, গলির মুখে কিছু বখাটে ছেলে দাঁড়িয়ে মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করে। এর ফলে অনেক মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। কেউ কেউ আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এতে সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হয়। সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। জাতি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।
প্রতিকার
১৯৭৬ সালে প্রণীত বাংলাদেশ আইনে ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। পারিবারিক অনুশাসন, ধর্মীয় শৃঙ্খলা, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আমরা ইভটিজিংয়ের (যৌন হয়রানির) মতো খারাপ কাজ করব না। আমরা সবসময় ভদ্র, নম্র, শালীন আচরণ করব। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপন করব।
| দলগত কাজ: শিক্ষার্থীরা ইভটিজিংয়ের (যৌন হয়রানির) ফলে কী কী সামাজিক ক্ষতি হয় তার একটি তালিকা তৈরি কর। |
| বাড়ির কাজ: সমাজে ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) প্রতিরোধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর। |
Read more